বৃহস্পতিবার, ৪ জুন ২০২৬ | ২১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
বৃহস্পতিবার, ৪ জুন ২০২৬ | ২১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মমতা পদত্যাগ না করলে কি জটিলতা তৈরি হবে?

নিজস্ব প্রতিবেদন

৬ মে ২০২৬

শেয়ার

এএনবি: পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির কাছে পরাজয়ের পর মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছেন, তার দল হারেনি—তাই তিনি পদত্যাগ করবেন না। এ মন্তব্যের পর রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে।

মঙ্গলবার কলকাতার কালীঘাটে নিজ বাসভবনে সংবাদ সম্মেলনে মমতা বলেন, ভোট ‘লুট’ করা হয়েছে এবং এ কারণে পদত্যাগের কোনো প্রশ্নই ওঠে না। তিনি অভিযোগ করেন, নির্বাচন কমিশন-এর সহায়তায় বিজেপি শতাধিক আসন জিতেছে।

তিনি বলেন, “সুষ্ঠুভাবে জিতলে আমার আপত্তি থাকত না। কিন্তু তা হয়নি। আমরা হারিনি, ভোট কারচুপি হয়েছে।”

পরাজয়ের জন্য নির্বাচন কমিশনকে দায়ী করে মমতা আরও অভিযোগ করেন, ভোটের আগে প্রশাসনে ব্যাপক রদবদল ও তল্লাশি চালানো হয়েছে, যা নির্বাচনের ওপর প্রভাব ফেলেছে। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, কেন্দ্রীয় নেতৃত্বেরও এতে সম্পৃক্ততা ছিল।

বর্তমান পরিস্থিতিতে দলীয় নেতারা তার পাশে রয়েছেন উল্লেখ করে তিনি জানান, রাজপথেই আন্দোলন গড়ে তুলবেন। “আমি রাস্তায় ছিলাম, রাস্তাতেই থাকব,”—বলেন তিনি।

এদিকে বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’র নেতারা তার পাশে থাকার বার্তা দিয়েছেন বলে জানান মমতা। তাদের মধ্যে রয়েছেন সোনিয়া গান্ধী, রাহুল গান্ধী, অরবিন্দ কেজরিওয়াল, উদ্ধব ঠাকরে, অখিলেশ যাদব এবং হেমন্ত সোরেন।

অন্যদিকে নির্বাচনে পরাজয়ের পরও মুখ্যমন্ত্রীর পদে থাকা নিয়ে সাংবিধানিক প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ভারতের সংবিধানে এমন পরিস্থিতির সরাসরি উল্লেখ নেই, কারণ এ ধরনের ঘটনা আগে ঘটেনি।

তবে বিধানসভার মেয়াদ শেষ হওয়ায় বিষয়টি কিছুটা পরিষ্কার। আগামী ৭ মে পর্যন্ত মমতা আনুষ্ঠানিকভাবে মুখ্যমন্ত্রী থাকবেন। এরপর তিনি পদত্যাগ না করলেও স্বয়ংক্রিয়ভাবে তার পদ শেষ হবে এবং তিনি ‘সাবেক’ মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে বিবেচিত হবেন।

এদিকে আসামের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা মন্তব্য করেছেন, মমতা পদত্যাগ না করলে তাকে বরখাস্ত করা উচিত।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বিজয়ী দল সরকার গঠনের দাবি জানালে এবং রাজ্যপাল তা মেনে নিলে সাংবিধানিক জটিলতা এড়ানো সম্ভব। ইতোমধ্যে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি-এর বক্তব্যে ইঙ্গিত পাওয়া গেছে, ৯ মে নতুন সরকার শপথ নিতে পারে।

সর্বশেষ

সব খবর