নিজস্ব প্রতিবেদক
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের নায়েবে আমীর এডভোকেট ড. হেলাল উদ্দিন বলেছেন, ছাত্র-জনতা রাজপথে নামলে বিএনপি গণভোটের রায় মানতে বাধ্য হবে। তিনি বলেন, গণভোটের রায় মেনে না নেওয়ার অর্থ হচ্ছে বিএনপি জুলাই বিপ্লবকে অস্বীকার করছে। শহীদদের রক্তের ওপর ভর করে ক্ষমতায় গিয়ে বিএনপি শহীদদের রক্তের সাথে বেঈমানি আর বিশ্বাসঘাতকতা করছে। দেশের প্রায় ৭০ শতাংশ জনগণ সংবিধান সংস্কারের পক্ষে গণভোটে “হ্যাঁ” ভোট দিয়েছে। কিন্তু বিএনপি সংসদে সংখ্যাগরিষ্টতার জোরে জনগণের গণরায় উপেক্ষা করে সংবিধান সংস্কারের পরিবর্তে সংবিধান সংশোধন করতে চাচ্ছে। এজন্য তারা নিজেদের পছন্দনীয় লোক দিয়ে সংবিধান সংশোধন কমিটি গঠন করেছে।
মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের পল্টন থানার উদ্যোগে রক্তাক্ত ৩৬ শে জুলাই আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এসময় তিনি আরও বলেন, জুলাই আন্দোলনকালে আজকের প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এবং বিএনপি শীর্ষ নেতৃবৃন্দ দেশে ছিলেন না। কেউ ছিলেন লন্ডন, কেউ ছিলেন শিলং। যার কারণে জুলাইয়ে ছাত্র-জনতার যেই চেতনা ও আকাঙক্ষা ছিল সেটি বিএনপি সরকার বুঝতে পারছে না। এজন্য বিএনপি সরকার জুলাই লালন ও ধারণ করতে পারছে না। জুলাইয়ের রক্তাক্ত সেই দিনগুলো বিএনপির শীর্ষ নেতৃবৃন্দ দেখলে গণভোটের রায় উপেক্ষা করতে পারতো না। জুলাইয়ের আকাঙ্ক্ষা ছিল রাষ্ট্র সংস্কার, ন্যায় বিচার ও নির্বাচন। কিন্তু জুলাই বিপ্লব পরবর্তীতে বিএনপি ক্ষমতা গ্রহণের জন্য শুধুমাত্র নির্বাচনের দাবি জানিয়ে আসছিল। রাষ্ট্র সংস্কার ও ন্যায় বিচারের কোনো দাবি আজ পর্যন্ত বিএনপি উপস্থাপন করেনি।
গণহত্যার বিচার প্রসঙ্গে ড. হেলাল উদ্দিন বলেন, শুধু ৩৬ জুলাইয়ে নয় বরং আওয়ামী লীগের শাসনামলের প্রতিটি দিন গণহত্যা চালানো হয়েছে। খুন, গুম, জুলুম-নির্যাতন, বিরোধী দলমত দমন, ব্যাংক গুলোকে দখল দিয়ে বিদেশে টাকা পাচার, উন্নয়নের নামে দুর্নীতির মহোৎসব, প্রশাসনে দলীয়করণসহ এমন কোনো অপকর্ম নেই যেটি আওয়ামী লীগ করেনি। তাই আওয়ামী লীগের শাসনামলের প্রতিটি দিনের বিচার করতে তিনি দাবি জানিয়ে বলেন, শুধু ব্যক্তি নয় আওয়ামী লীগ দল হিসেবেও মানবতাবিরোধী অপরাধ করেছে। তাই দল হিসেবেও আওয়ামী লীগের বিচার করতে তিনি সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।
মহানগরীর মজলিসে শুরা সদস্য ও পল্টন থানা আমীর এডভোকেট মারুফুল ইসলামের সভাপতিত্বে সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন মহানগরীর কর্মপরিষদ সদস্য শাহীন আহমেদ খান। প্রধান আলোচক ছিলেন ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি, পল্টন থানা সেক্রেটারি মঞ্জুরুল ইসলাম।
পল্টন থানা কর্মপরিষদ সদস্য মো. মোশাররফ হোসাইনের পরিচালনায় অনুষ্ঠিত সভায় থানা সহকারী সেক্রেটারি এনামুল হকসহ বিভিন্ন পর্যায়ের দায়িত্বশীল নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।




















