এএনবি: তাকাফুল ইসলামী ইন্স্যুরেন্স পিএলসিতে পরিচালক নির্বাচন নিয়ে চলমান বিরোধ এবার আইনি লড়াইয়ে মোড় নিয়েছে। বীমা খাতের নিয়ন্ত্রক সংস্থা আইডিআরএ’র নির্দেশনার বিরুদ্ধে পরিচালনা পর্ষদের অনুমোদন ছাড়াই হাইকোর্টে রিট দায়েরের অভিযোগ উঠেছে কোম্পানির চেয়ারম্যান তাহমিনা আফরোজের বিরুদ্ধে। বোর্ডকে অন্ধকারে রেখে একক সিদ্ধান্তে এই আইনি পদক্ষেপ নেওয়ায় প্রতিষ্ঠানটিতে করপোরেট সুশাসন ও জবাবদিহি নিয়ে বড় প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।
জানা গেছে, গত ৫ ফেব্রুয়ারি আইডিআরএ’র চেয়ারম্যানের কাছে এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন কোম্পানির তিন পরিচালক মো. আবুল হাসেম, মো. হুমায়ুন কবির পাটওয়ারী এবং মো. আবুল হাসেম। তাদের অভিযোগ, পর্ষদকে না জানিয়ে চেয়ারম্যান নিজেই রিট করার জন্য ‘অথরাইজেশন লেটার’ ইস্যু করেছেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, কোম্পানির ২৫তম বার্ষিক সাধারণ সভায় পরিচালক নির্বাচনে ভোট গণনায় কারচুপির অভিযোগ ওঠে। অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে আইডিআরএ নিরীক্ষা প্রতিষ্ঠান মাহফিল হক অ্যান্ড কোং চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্টসকে দিয়ে তদন্ত করায়। তদন্তে ভোট গণনায় অনিয়ম প্রমাণিত হয়। এর ভিত্তিতে গত ৮ ডিসেম্বর আইডিআরএ নির্দেশনা জারি করে। এতে অনিয়মিতভাবে বিজয়ী ঘোষিত পাঁচ পরিচালক এ বি এম কায়কোবাদ, মো. মাসুদুর রহমান, তাহমিনা আফরোজ, জিয়াউদ্দিন পোদ্দার এবং মো. সাইফুল ইসলামের পরিবর্তে বিধি অনুযায়ী প্রকৃত বিজয়ী মো. মফিজ উদ্দিন, ফারজানা রহমান, আনোয়ার হোসেন চৌধুরী, নাফিসা সালমা এবং মো. ওসমান গণিকে দায়িত্ব দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।
অভিযোগকারী পরিচালকদের দাবি, আইডিআরএ’র ওই নির্দেশনার বিরুদ্ধে হাইকোর্টে রিট পিটিশন নম্বর ২৮৬/২০২৬ দায়ের করা হয়েছে। কিন্তু বিষয়টি কখনও বোর্ড সভায় আলোচিত হয়নি। রিট দায়েরের ক্ষমতাপত্রে বোর্ড অনুমোদনের কথা উল্লেখ থাকলেও বাস্তবে এর কোনো ভিত্তি নেই।
চিঠিতে তারা আরও উল্লেখ করেন, পরিচালক নির্বাচন সংক্রান্ত আইনজীবীদের মতামত, নির্বাচন কমিশনের প্রতিবেদন এবং আইডিআরএ’র গুরুত্বপূর্ণ চিঠিগুলোও পর্ষদ সভায় উপস্থাপন করা হয়নি। এমনকি কোম্পানির সিইও ও সচিবও এ বিষয়ে বোর্ডকে অন্ধকারে রেখেছেন।
এসব অভিযোগের বিষয়ে জানতে তাকাফুল ইসলামী ইন্স্যুরেন্সের চেয়ারম্যান তাহমিনা আফরোজের মোবাইলে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। হোয়াটসঅ্যাপে বার্তা পাঠিয়েও কোনো সাড়া মেলেনি।
পরিচালকরা বলছেন, গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণে স্বচ্ছতার এই অভাব কোম্পানির করপোরেট সুশাসনকে দুর্বল করে দিয়েছে। তবে তারা আইডিআরএ’র তদন্ত প্রতিবেদন ও নির্দেশনার প্রতি পূর্ণ সমর্থন জানিয়েছেন এবং চলমান রিট মামলায় নিয়ন্ত্রক সংস্থার কার্যকর ভূমিকা প্রত্যাশা করেছেন।
খাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, পরিচালক নির্বাচন ঘিরে সৃষ্ট এই অচলাবস্থা বীমা খাতের করপোরেট ব্যবস্থাপনা এবং নিয়ন্ত্রক সংস্থার কার্যকারিতা নিয়ে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।






















