সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬ | ৭ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬ | ৭ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ফ্যাটিলিভারের সমাধান হবে ওষুধ ছাড়াই

নিজস্ব প্রতিবেদন

২৪ মার্চ ২০২৬

শেয়ার

এএনবি: ল্প বয়সের তরুণ-তরুণী থেকে শুরু করে বয়স্কদের মধ্যেও এখন দ্রুত বাড়ছে ফ্যাটি লিভারের সমস্যা। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, নিয়মিত খাদ্যাভ্যাস ও জীবনযাত্রায় পরিবর্তন আনলে অনেক ক্ষেত্রে ওষুধ ছাড়াই এই সমস্যা নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।

লিভার বা যকৃত আমাদের শরীরের একটি গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ, যা খাদ্য হজমে সাহায্য করে এবং শরীর থেকে বিষাক্ত পদার্থ বের করে দেয়। কিন্তু ফ্যাটি লিভার হলে এই স্বাভাবিক কাজ ব্যাহত হয়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনিয়মিত জীবনযাপন, অতিরিক্ত তেল-চর্বিযুক্ত খাবার এবং শারীরিক পরিশ্রম কমে যাওয়ার কারণে এই রোগের ঝুঁকি বাড়ছে।

চিকিৎসকদের মতে, লিভারের মোট ওজনের প্রায় ৫ থেকে ১০ শতাংশ চর্বি জমে গেলে সেটিকে ফ্যাটি লিভার বলা হয়। দীর্ঘদিন চিকিৎসা না করলে এটি লিভার সিরোসিসের মতো জটিল অবস্থায় রূপ নিতে পারে।

যে লক্ষণগুলো দেখা দিতে পারে

ফ্যাটি লিভারের প্রাথমিক লক্ষণ অনেক সময় সহজে বোঝা যায় না। তবে আক্রান্ত হলে সাধারণত—

  • পেটের ওপরের দিকে বা মাঝখানে ব্যথা
  • বমিভাব
  • অতিরিক্ত ক্লান্তি
  • ক্ষুধামন্দা
  • মনোযোগ কমে যাওয়া
  • সারাদিন ঘুম ঘুম ভাব

এই ধরনের উপসর্গ দেখা দিতে পারে।

তেঁতুলের জুস উপকারী হতে পারে

বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় কিছু স্বাস্থ্যকর খাবার রাখলে লিভার ভালো থাকে। দুপুরের খাবারের পর তেঁতুলের জুস খাওয়া উপকারী হতে পারে। তেঁতুলে খনিজ, ভিটামিন ও ডায়েটারি ফাইবার রয়েছে, যা লিভারকে টক্সিন থেকে রক্ষা করতে সাহায্য করে।

তেঁতুলের জুস তৈরি করতে পারেন এভাবে—

  • ৩ চা চামচ তেঁতুলের ক্বাথ
  • এক চিমটি বিট লবণ
  • ¼ চা চামচ গোলমরিচ গুঁড়া
  • ১ চা চামচ মধু
  • ¼ চা চামচ পুদিনা পাতার পেস্ট
  • স্বাদমতো লবণ
  • এক গ্লাস পানি

সব উপকরণ মিশিয়ে তৈরি করা এই জুস নিয়মিত পান করলে ফ্যাটি লিভারের ঝুঁকি কমতে পারে।

তেঁতুলে কপার, পটাশিয়াম, ক্যালশিয়াম, আয়রন, জিংক, ম্যাগনেশিয়াম, ভিটামিন সি, নিয়াসিন, থিয়ামিন ও ফলিক অ্যাসিডসহ নানা পুষ্টি উপাদান থাকে, যা শরীরের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতাও বাড়ায়।

খাদ্যাভ্যাসে যেসব পরিবর্তন জরুরি

ফ্যাটি লিভার এড়াতে প্রতিদিনের খাবারে রাখতে হবে—

  • ফাইবারসমৃদ্ধ খাবার
  • লাল চাল ও লাল আটা
  • ওটস
  • রঙিন শাকসবজি
  • ফলমূল
  • গ্রিন টি
  • আখরোট

এছাড়া ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড পেতে স্যালমন, সার্ডিন, টুনা ও ট্রাউটের মতো সামুদ্রিক মাছ খাওয়ার পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা।

অন্যদিকে তেল, ঝাল, অতিরিক্ত মিষ্টি, ভাজাপোড়া ও বেশি মসলাযুক্ত খাবার কম খাওয়াই ফ্যাটি লিভার প্রতিরোধের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উপায়।

সর্বশেষ

সব খবর