এএনবি: অনিয়ম, স্বেচ্ছাচারিতা ও খামখেয়ালিপনার নজিরবিহীন দৃষ্টান্ত স্থাপন করে দেশের প্রধানতম শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ পিএলসিকে মানের দিক দিয়ে তলানিতে পৌঁছে দিয়েছেন প্রতিষ্ঠানের চীফ অফারেটিং অফিসার মোহাম্মদ আসাদুর রহমান।
জানা যায়, ২০১০ সালে ডিএসইর তৎকালীন জিএম ও কোম্পানি সেক্রেটারি শেখ মোহাম্মদ উল্লাহ হাত ধরে সহকারী মহাব্যবস্থাপক হিসেবে ডিএসইতে জয়েন করলেও সুযোগ বুঝে উপমহাব্যবস্থাপক ও মহাব্যবস্থাপক ও সর্বশেষ প্রতিষ্ঠানটির দ্বিতীয় সর্বোচ্চ গুরুত্বপূর্ণ পদ চিফ অপারেটিং অফিসার পদে আসীন হয়েছেন।
কর্মকর্তা/কমচারীদের পদোন্নতি, বিভিন্ন বিষয়ে প্রশিক্ষণের জন্য বিদেশ গমন, বিভিন্ন বিভাগ/ডিভিশনে বদলিসহ নানা প্রকল্পের বিষয়ে অস্বচ্ছতা ও অনিয়মের স্বর্গরাজ্যে পরিণত হয়েছে ডিএসই।
আসাদুর রহমান আওয়ামী লীগ সরকারের সময় ডিএসইর আওয়ামী লীগপন্থী মেম্বার আহসানুল ইসলাম টিটুর সাথে ভালো সম্পর্ক রক্ষা করে চললেও ২০২৪ সালের ০৫ আগস্ট স্বৈরাচার আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর সে জামায়াতের লোকজনের সাথে যোগাযোগ বাড়িয়ে দেয় এবং ডিএসইর বিএনপিপন্থী মেম্বার মিনহাজ মান্নান ইমনের সাথে সখ্যতা গড়ে বহাল তবিয়তে রয়েছেন তিনি।
২০২৫ সালের জুন মাসে তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থপনা পরিচালক সাত্ত্বিক আহমেদ শাহের মেয়াদ শেষে কোনো সার্কুলার ছাড়াই মোহাম্মদ আসাদুর রহমানকে বর্তমান পদে ৫ লাখ টাকা মাসিক বেতনে নিয়োগ দেয়া হয় এবং পরবর্তীতে আরো এক লাখ টাকা বাড়িয়ে ৬ লাখ করা হয়।
এ সশয় ডিএসইতে চিফ অপারেটিং অফিসার পদে নিয়োগ দেয়ার বিজ্ঞাপন দেয়ার পর অন্য অনেকের পাশাপাশি ডিএসইর ভিতর থেকে একজন জিএম আবেদন করলেও তাদের উপেক্ষা করে আসাদুর রহমান কোনো আবেদন না করলেও তাকে এই পদের জন্য বেছে নেয়া হয়েছে।
ডিএসইর একজন ট্রেকহোল্ডার পরিচালকের সাথে তালমিলিয়ে মোহাম্মদ আসাদুর রহমান এসব তুঘলকি কান্ড চালিয়ে যাচ্ছেন কিন্তু চাকরি হারানোর ভয়ে কেউ সাহস করে মুখ খুলতে পারছেন না।
২০১০ সালে ডিএসইতে যোগদানের পর থেকে দফায় দফায় বেতন বাড়ানোর ছাড়াও নানারকম সুযোগ-সুবিধা নেয়ার পাশাপাশি সমস্ত বিষয়ে একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তার করার মাধ্যমে ডিএসইতে এমন নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেছেন যে আসাদুর রহমানের সম্মতি ছাড়া কোনো কিছু করা প্রায় অসম্ভব।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে বেশ কয়েকজন উপমহাব্যবস্থাপক বলেছেন যে, ডিএসইর সর্বশেষ বদলির সময় আসাদুর রহমান তার পছন্দের মানুষদেরকে গুরুত্বপূর্ণ বিভাগে পোস্টিং দিয়ে পুরো প্রতিষ্ঠানের শতভাগ নিয়ন্ত্রণ নিজের দখলে নিয়েছেন।
সদ্য নিয়োগ পাওয়া ব্যবস্থাপনা পরিচালক নুজহাত আনোয়ার কোনো কিছু বুঝে উঠার আগেই আসাদুর রহমান তার সকল ফাঁদ এমনভাবে পেঁতেছেন যে চাইলেও সেখান থেকে বেরিয় আসা প্রায় অসম্ভব।
অভিযোগ রয়েছে, একজন এক্সিকিউটিভ লেভেলের কর্মকর্তাকে দিয়ে আসাদুর রহমান সবকিছু ম্যানেজ করেন। ঐ কর্মকর্তার মাধ্যমে বোর্ডের স্বতন্ত্র পরিচালকদেরকেও বিভিন্ন সুযোগসুবিধা দিয়ে ম্যানেজ করা হয়। সিটিও, সিএফও, সিআরও পদের মতো গুরুত্বপূর্ণ পদধারীরা থাকলেও আসাদুর রহমান ছাড়া কোনো কাজ হয়না। বিদেশ সফরে লোক বাছাইয়ের সময়ও আসাদুর রহমানের ইচ্ছাই প্রাধান্য পায়।





















